1. admin@bongojournal24.com : admin :
শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কিশোর কিশোরীদের সচেতন করতে দুর্গাপুরে কৈশোর মেলা বাংলাদেশ ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করতে আগ্রহী : প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপুরে একযোগে ৭টি উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি রুহী আমার প্রত্যেকটা কাজ,ব্যতিব্যস্ততা আপনাদের জন্য : জনসাধারণের প্রতি এমপি রুহী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব হলেন নাঈমুল ইসলাম খান মানিকগঞ্জে দুই উপজেলায় মোটরসাইকেল প্রতিকের জয়জয়কার বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ রোল মডেল : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্গাপুরে ফসলি জমি ধংস করে বালু বিক্রি হিড়িক,প্রশাসনের অভিযান পলাশবাড়ীতে ঘুর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি মানিকগঞ্জে উন্মুক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠিত

অভাব অনটনে ভরা চা শ্রমিকদের জীবন

বঙ্গ জার্নাল
  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৬ মে, ২০২৪
  • ৭৯ বার পঠিত

 

মো. আমিনুল ইসলাম পাঠান ||
মাধবপুর (হবিগঞ্জ)

দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ খ্যাত পরিচিত সিলেটের প্রবেশদ্বার হবিগঞ্জের মাধবপুর চা বাগান। উপজেলার সোনাই নদীর পাড় ঘেঁষে ১৮৫৪ সালে মালনীছড়া চা বাগান মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চা শিল্পের গোড়াপত্তন হয়। বর্তমানে সিলেট জেলায় মোট চা বাগানের সংখ্যা ২০টি। তার মধ্যে পরিত্যক্ত একটি।
সিলেটের নাম শুনলেই মাথায় আসে চা বাগান এবং বাগানে নারী শ্রমিকদের চা তোলার চিত্র।পাহাড়ের কোলে সবুজময় শতবর্ষী বাগানগুলোতে মৌসুমী চায়ের নতুন পাতার সূচনা হয়। কিন্তু সংকট মুক্ত হয় না নারী শ্রমিকের জীবন। চা বাগানের নারী শ্রমিকরা চা বাগানের অভ্যন্তরে বাইরে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করলেও তারা জানে না নারী অধিকারের কথা। এসব নারীরা চা শ্রমিক শিল্পে অবদান রাখলেও তারা বরাবরই অধিকার থেকে বঞ্চিত। নারী চা শ্রমিকরা সকলে বাড়ির কাজ শেষ করে প্রতিদিন সকালে দলবেঁধে চা বাগানে চলে আসেন। সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ পর্যন্ত সারাদিন দাঁড়িয়ে চায়ের কচি কুঁড়ি তুলেন। মজুরি পান বর্তমানে ১৮০ টাকা। এর আগে ২০০৭ সালে মজুরি ছিল ৩২ টাকা। ২০০৯ সালে টাকা বাড়িয়ে মজুরি করা হয় ৪৮ টাকা। ২০১৩ সালে বাড়ানো হয় ৬৯ টাকা। পরবর্তীতে একুশে আগস্ট ২০২২ সালে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা শ্রমিকরা আন্দোলনের ডাক দিলে তাদের সহযোগিতা করেন বর্তমান মাধবপুর-চুনারুঘাটের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। শ্রমিকদের দাবি ছিলো চা দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা। তাদের দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দৈনিক মজুরি ১৮০ টাকা নির্ধারণ করে দিলে শ্রমিক কিছুটা শান্ত হন।
বর্তমান বাজার মূল্য বৃদ্ধিতে কেমন কাটছে চা শ্রমিকদের জীবন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগানে কর্মরত চা শ্রমিক বাণী পান খোলা কাগজকে বলেন, আমার দৈনিক মজুরি ১৮০ টাকা। এই অল্প মজুরি দিয়েই সংসারের খরচ, চিকিৎসা সেবা ও ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া করিয়ে ঠিকে থাকা দায় হয়ে গেছে। কোনভাবেই চলতে পারতেছিনা। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু দেখতো তাহলে আমাদের এই বেহাল দশা থাকতো না।
আরেকজন শ্রমিক জানান, বাগানের শ্রমিকরা অসুস্থ হলে তাদের মিলে না কোন এমবিবিএস পাস করা ডাক্তারের চিকিৎসা, বাগান এলাকায় সরকারি হাসপাতাল না থাকায় চা শ্রমিকের স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাগান পরিচালিত স্বাস্থ্য বিভাগ থাকলেও এর পরিষেবা খুবই সীমিত। অসুস্থ শরীর নিয়ে যখন চা শ্রমিকরা স্বাস্থ্য বিভাগে গেলে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে রোগীকে রেফার করে উপজেলা সদর হাসপাতলে। কিন্তু অবস্থা জটিল হওয়ায় উপজেলা সদর হাসপাতাল থেকে রোগী হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল বা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বাগানের নিম্ন বেতনে চাকরি করা চা শ্রমিক সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে ভয় পায় টাকার অভাবে। যদিও অধিকাংশ চা শ্রমিক জানে না সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা খরচ সরকার বহন করেন।
এদিকে, তাদের অক্লান্ত শ্রমেই গড়ে ওঠে চা বাগান, বাগান থেকে তাদের হাতই তুলে আনে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’, তাদের শীর্ণ পিঠে চড়েই কারখানায় যায় সোঁদা গন্ধের পাতার বোঝা। তারা চা শ্রমিক। চা শিল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শিল্পীও তারা। বাংলাদেশে এমন ‘শিল্পী’ এখন ১ লাখ ২২ হাজারের মতো। চা বাগানেই চা শ্রমিকদের বাস। বাগানের ‘লেবারার’, অর্থাৎ শ্রমিকেরা এক পাড়ায় থাকেন বলে পাড়ার নাম হয়ে গেছে ‘লেবার লাইন’। ৮ হাত বাই ১২ হাতের এক টুকরো জমির ওপর গড়ে তোলা মাটির ঘরে গাদাগাদি করে থাকে শ্রমিক পরিবার। কোনো কোনো পরিবারে ৮ থেকে ১০ জন সদস্য। ওই ৮ বাই ১০ বাই ১২ হাতের জায়গাটুকুই একমাত্র সম্বল।

এছাড়াও হাজরা, হারাম, সাঁওতাল, সাধু, টগর, মুন্ডাসহ অনেকগুলো নৃগোষ্ঠীর মানুষ আছে চা শ্রমিকদের মাঝে। তাই ছোট-বড় নানা ধরণের উৎসব লেগেই থাকে সারা বছর। টিকে থাকার সংগ্রাম চা বাগানের মজুরিতে সংসার চলে না বলে বাড়তি উপার্জনের জন্য শ্রমিকদের অবসর সময়েও কিছু না কিছু করতে হয়। ঘরে তৈরি বিভিন্ন পণ্য বাজারে বিক্রি করেও দ্রব্যমূ্ল্েযর ঊর্ধগতির সময়ে টিকে থাকছেন অনেকে। চা শ্রমিক ইউনিয়নের সূত্রমতে, দেশে নিবন্ধিত চা বাগান ১৬৭টি। তাতে বসবাস করে প্রায় ১০ লাখ চা জনগোষ্ঠী। এসব বাগানে নিবন্ধিত শ্রমিক প্রায় ১ লাখ, অনিয়মিত শ্রমিক আরো প্রায় ৪০ হাজার। চা শ্রমিকদের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী। মাত্র ১৮০ টাকার দৈনিক মজুরিতে তারা প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করেন। সপ্তাহে ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম চাল বা আটা রেশন হিসেবে পান, যা পাঁচ-ছয়জনের পরিবারে খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে এখানে শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যুসহ অপুষ্টির কারণে এখানকার গড় আয়ুও খুব কম। আর্থিক টানাপড়েন নিয়ে জীবন কাটালেও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চা উৎপাদন ধরে রেখেছেন ‘চা-কন্যারা’

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা