1. admin@bongojournal24.com : admin :
শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
দুর্গাপুর-কলমাকান্দায় এমপি রুহীর আয়োজনে প্রথমবার বসছে কৃষক আনন্দ মেলা একাধিক মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার দুর্গাপুরে ডা: তানজিরুল ইসলাম রায়হান এর উদ্যোগে সুসজ্জিত করা হলো শিশু ওয়ার্ড পলাশবাড়ী স্বেচ্ছা ব্লাড ফাইটার্স এর উদ্যোগে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মাঝে গরুর মাংস বিতরণ উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পারভীন আক্তার এর মতবিনিময় রায়পুরে স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন নবদিগন্তের ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠান  দুর্গাপুরে এতিম ও অসহায় শিশুদের ঈদ উপহার বিজয়নগরে প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কলমাকান্দায় পিকআপ-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১ লক্ষ্মীপুরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ভাঙচুরসহ প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

শখের বাইসাইকেল বিক্রি করে দুর্গাপুরে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করেছিলেন তিনি

বঙ্গ জার্নাল
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ৬৭ বার পঠিত

মামুন রণবীর

১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রেসকোর্স ময়দানের নাগরিক সংবর্ধনা সভায় এবং ২৪ মার্চ কার্জন হলে বিশেষ সমাবর্তনের ছাত্রসভায় বেশ জোরালো ভাষায় বলেন,পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। যারা এর বিরোধিতা করে, তারা পাকিস্তানের দুশমন। তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র জনতা এটা কোনভাবেই মানতে পারেনি। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ বাঙালি প্রাণের ভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সোচ্চার হতে থাকে। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন।

১৯৫২ সাল। ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখ। এদিন ঢাকা জেলার সর্বত্র হরতাল-সভা-সমাবেশ-মিছিল নিষিদ্ধ করে জেলা প্রশাসন। এক মাসের জন্য জারি হয় ১৪৪ ধারা। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র জনতা মিছিল করলে তাদের উপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। সেই গুলিতে সালাম,বরকত,রফিক,জব্বার সহ অনেকে শহীদ হন। ভাষার জন্য এই আত্মত্যাগ প্রথমবার দেখলো পৃথিবী। ক্রমে ক্রমে সারা বাংলায় এই খবর ছড়িয়ে যায়। তাদের স্মরণে নির্মিত হয় শহীদ মিনার।

ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে পরবর্তীতে নেত্রকোণার দুর্গাপুরেও শহীদ মিনার নির্মিত হয়। এটি নির্মাণের নেপথ্য নায়ক আবুল বাশার। তিনি তখন দুর্গাপুরের এম.কে.সি. এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। একদিন শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিটিং ডাকেন। সকলে মিলে সিদ্ধান্ত হয় একটি শহীদ মিনার তৈরি করতে হবে। কিন্তু শহীদ মিনার তৈরি করতে হলে তো টাকার প্রয়োজন। কিভাবে হবে টাকার জোগাড়? ছাত্ররা একটি বুদ্ধি বের করে ফেললো। তারা একত্রিত হয়ে আবুল বাশারকে প্রস্তাব দেয় প্রত্যেকে ৫০ পয়সা করে দিবে,বাকিটা দিতে হবে আবুল বাশারকে।

১৯৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের এক দুপুরবেলা আবুল বাশার বসে বসে ভাবছিলেন,কদিন পর শহীদ দিবস। এখন তো অবশ্যই শহীদ মিনার নির্মাণ করতে হবে। তিনি এটি ছাত্রদের বললেন। তারাও বেশ উৎফুল্ল। আবুল বাশার তার বন্ধুস্থানীয় বিল্লাল, দিলদার,মোহন, লুৎফর, কাজল, দেবেশ, জীবেশ, দেবল, খালেক, বারী প্রমুখকে নিয়ে মিস্ত্রি শংকরের কাছে গেলেন। আবুল বাশারের ভাষ্যমতে তারা বললেন, দাদা আমরা সকল ছাত্র মিলে ৬৫ টাকা জোগাড় করতে পেরেছি। এই টাকা দিয়ে আমাদের স্কুলে একটি শহীদ মিনার তৈরি করে দিতে হবে। ছাত্রদের কথা ভেবে শংকর মিস্ত্রি রাজি হয়ে গেলেন। তিনি দ্রুতই কাজে নেমে পড়লেন। খেটেখুটে একদিনে তৈরি করে ফেললেন শহীদ মিনার। কিন্তু পরদিনই দেখা গেল শহীদ মিনারটি কারা ভেঙে ফেলেছে। ঘটনা জানাজানি হলে ছাত্রদের মধ্যে একটা চাপা কষ্ট বয়ে যায়। আবুল বাশার ঘটনাটি শুনে দ্রুত উপস্থিত হলেন। তিনি বুঝতে পারলেন কারা এই শহীদ মিনার গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তিনি ঘটনার অন্তরালের ঘটনা বের করে ফেললেন কিন্তু কোন প্রতিবাদ করতে পারলেন না। কারণ দুর্বৃত্তদের অনেক ক্ষমতা,তারা পাকিস্তান সরকারের দালাল। তবে আবুল বাশার ভেতর ভেতর জেদ চাপলেন। তিনি চিন্তা করলেন কোনভাবেই দমে যাওয়া যাবে না। হারকুলিস ব্র‍্যান্ডের একটা শখের বাইসাইকেল ছিল তার। শহীদ মিনার তৈরি করতে ৪৫ টাকায় বিক্রি করে দিলেন বাইসাইকেলটি৷

আবুল বাশার শংকর মিস্ত্রিকে অনুরোধ করে বললেন, দাদা আমি টাকা দিচ্ছি আপনি আবার শহীদ মিনার তৈরি করে দিন। আর ভয় পাবেন না,আমরা আছি। এভাবে সজাগ প্রহরায় থেকে তৈরি করা গেল গৌরবের সেই শহীদ মিনার।

আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। আবুল বাশার সকল ছাত্রদের নিয়ে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানালেন। সেই মুহূর্তে সকলের চোখ ছলছল করছিলো। আবুল বাশার সকলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন অশ্রুসিক্ত নয়নে। তারপর ছাত্রদের ‘শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেবোনা’ স্লোগানে মুখরিত হলো স্কুল প্রাঙ্গণ। পরে তারা একুশের র‍্যালি বের করলেন। দুর্গাপুর বাজার প্রদক্ষিণ করলো র‍্যালিটি। ইতিহাস ঐতিহ্যের সুসঙ্গ দুর্গাপুরে এভাবেই শুরু হলো অমর একুশে পালন।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা